নড়াইলে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

সোলাইমানের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছবি: আগামীর সময়
নড়াইলে মারকাযুল কোরআন মাদরাসার আবাসিক ছাত্র হাফেজ সৈয়দ সোলাইমান ইসলামের (১৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে সোলাইমানের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসায় নির্যাতনের পর মৃত্যু হয়েছে সোলাইমানের। তবে মাদরাসার অধ্যক্ষের দাবি, অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে তার। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
নড়াইল শহরসংলগ্ন লস্করপুর-চাঁনমারি এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল কোরআন মাদরাসার কিতাব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল সোলাইমান। সে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল ইসলামের ছেলে।
সোলাইমানের বাবা সৈয়দ ইকরামুল ইসলাম ও মা পারভীন আক্তার জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যায় সোলাইমান। রাতে মাদরাসায় থাকার পর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদরাসা থেকে পরিবারের কাছে ফোন করে জানানো হয়, অসুস্থ হয়ে পড়েছে সোলাইমান। পরিবারের লোকজন এসে তাকে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সোলাইমানের বাবা ইকরামুল ইসলামের অভিযোগ, তার ছেলের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার ছয় ঘণ্টা পরেও আমার ছেলে সোলাইমানকে হাসপাতালে ভর্তি করেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতেই আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মারকাযুল কোরআন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তিনি জানান, কোনো শিক্ষক সোলাইমানকে শারীরিক নির্যাতন করেননি। অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তির পর সোলাইমান মারা গেছে। ময়নাতদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের কেউ জড়িত থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে তা মেনে নেব।’
নড়াইল সদর থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় মাদরাসার তিন শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। তবে বাদীপক্ষ এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে সোলাইমানের মরদেহ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।






