হবু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে প্রাণ গেল শুভঙ্করের

সামনে ছিল বিয়ের আয়োজন। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। আগামী অগ্রহায়ণ মাসে বিয়ের কথা ছিল শুভঙ্কর মণ্ডলের। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তার নিয়মিত যাতায়াতও ছিল সে কারণে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মোটরসাইকেলে করে শ্যামনগর থেকে ফিরে যাওয়ার পথে বিআরটিসি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ২৯ বছর বয়সী এই যুবক।
আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর এলাকায় লস্কার পেট্রোল পাম্পের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শুভঙ্কর মণ্ডল খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য দুর্গাপদ মণ্ডলের ছেলে। তিনি বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুভঙ্কর সোমবার শ্যামনগরে আসে। পরে রাতে শ্যামনগর থেকে সকালে মোটরসাইকেলে করে কালিগঞ্জে তার ভাইয়ের (পিসির ছেলে) বাসায় যাচ্ছিলেন। ওই ভাই কালিগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। পথে বংশীপুর লস্কার পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ পাশে অ্যাডভোকেট আজিবর রহমানের বাড়ির কাছে সাতক্ষীরাগামী একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এসময় বাসের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া।
শুভঙ্করের পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মথুরাপুর এলাকার নিত্যানন্দ মণ্ডলের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ের এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। পারিবারিকভাবে অগ্রহায়ণ মাসে বিয়ের আয়োজনের কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতি ও দুই পরিবারের যোগাযোগের কারণে শ্যামনগরে তার যাতায়াতও বেড়েছিল।
শুধু নিজের বিয়ের আয়োজনই নয়, শুভঙ্করের ছোট বোনের বিয়ের কথাবার্তাও শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী এলাকার সুব্রত বিশ্বাসের ছেলের সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার। ফলে দুই পরিবারের সঙ্গে শুভঙ্করদের পারিবারিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
শুভঙ্করের পিসতুতো ভাই সজল রায় বললেন, ‘শুভঙ্কর সকালে মোটরসাইকেলে করে আমার বাসার দিকেই আসছিল। ভাবিনি তার সঙ্গে আমার দেখা হবে না। কয়েক মাস পর তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, দুই পরিবার মিলে কত পরিকল্পনা করছিল। আজ সেই মানুষটাই নেই- এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। ফোনে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরও বিশ্বাস হচ্ছিল না। রাস্তার ওপরই তাকে এভাবে হারাতে হলো। আমাদের পরিবারের আনন্দের যে সময়টা সামনে ছিল, শুভঙ্করের মৃত্যু মুহূর্তেই সবকিছু শোকের মধ্যে বদলে দিল।'
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল আটটার দিকে খুলনাগামী বিআরটিসি সঙ্গে একই দিকে যাওয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ সময় মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেল আরোহী।




