আ.লীগ নেতা থেকে মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় প্রধান!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাবনা জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক কার্যকরী সদস্য প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন; ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদেও। পাবনা-৫ (সদর) আসন থেকে একাধিকবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নও চেয়েছিলেন। সেই তিনিই রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপি নেতা! পেলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়কের পদ। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পাবনা জেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে সভাপতিত্বও করেছেন ঈসমাইল হোসেন। বিএনপিতে হঠাৎ তার এমন পদপ্রাপ্তিতে জেলা জুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারাও।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর ড. ঈসমাইল হোসেন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৫ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের ৩ নম্বর সদস্য। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক আইনজীবী সাবিত ফয়সাল রিজভী মুহাম্মদ ঈসমাইলের আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকে মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় পদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা বলেছেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। দলে আওয়ামী লোকজনের অনুপ্রবেশ রোধে আমাদের চেয়ারম্যান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরও ঈসমাইল সাহেব কীভাবে এই দলে এলেন, আমার জানা নেই। আমি দলীয় ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করব।’ জানতে চাইলে মুহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন বলেছেন, ‘কে বা কারা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্যের তালিকায় আমার নাম দিয়েছিল। আমি বিষয়টি জানার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। এরপর থেকে আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেছেন, ‘মুহাম্মদ ঈসমাইলকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও অবগত নই। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য হলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দলের ফোরামে জানাব।’
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেছেন, ‘ড. মুহাম্মদ ঈসমাইলের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তার এই রাজনৈতিক পরিচয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা প্রমাণিত হলে মুক্তিযোদ্ধা দলে এটিই হবে তার শেষ দায়িত্ব। তাকে আর এই সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হবে না। ঢাকায় পৌঁছেই তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও পদ বাতিলের নোটিস ইস্যু করা হবে।’



