ধুনট
পানির স্রোতে দেবে গেছে সেতু, চলাচল বন্ধ দুই ইউনিয়নে

পানির স্রোতে বগুড়ার ধুনটে আরসিসি গার্ডার সেতু দেবে গেছে, ছবি: আগামীর সময়
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও খালের পানির স্রোতে বগুড়ার ধুনটে আরসিসি গার্ডার সেতু দেবে গেছে। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নিমগাছী-হেউটনগর সড়কের চরকাদহ খালে পানির স্রোতে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিমগাছী ও কালেরপাড়া দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রবিবার বিকাল থেকে ধুনট উপজেলা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে খালের ভাটি এলাকার দিকে পানির স্রোত নামে। পানির চাপে সেতুটির নিচে ও দুপাশে সড়কের সংযোগস্থলে মাটি ধসে যায়। এতে সোমবার সকাল ৮টার দিকে সেতু দেবে এবং হেলে সড়কটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যার ফলে নিমগাছী-হেউটনগর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক নূর আলম বলেছেন, ‘সেতুটি ভেঙে পড়ায় দুই ইউনিয়নের যাতায়াত বন্ধ আছে। এখন যেতে হলে আমাদের দীর্ঘপথ ঘুরে আসতে হবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত গাড়ি চলাচলের একটা ব্যবস্থা করা হোক’।
নিমগাছী গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেছেন, সেতুটি অনেক পুরনো। সেতুটি দেবে সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কারণ আমার মতো অনেক কৃষক আছে সারাদিন এই পথে যাতায়াত করতে হয়।
খবর পেয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ নিজামী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে নিমগাছী-হেউটনগর গ্রামীণ সড়কের চরকাদহ খালের ওপর উপজেলা পরিষদের ফান্ডে এই আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করেছিল চেয়ারম্যানরা। এতে সে সময় ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ টাকার মতো। সেতুটি নির্মাণের ফলে নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে সেতু বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথে চলাচল করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেছেন, এটি মূলত কালভার্ট এবং অনেক পুরনো। ভারী বর্ষণ ও পানির স্রোতে কালভার্টের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। এ ধরনের স্থানে আরও শক্তিশালী সেতু নির্মাণের প্রয়োজন।




