মনোহরগঞ্জ
চেয়ার খালি, থমকে আছে ফাইল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শীর্ষ প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কাজকর্ম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাব-রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ টেবিলে কর্মকর্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে দিন পার করছেন সেবাগ্রহীতারা।
খালি চেয়ার, থমকে আছে ফাইল
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার প্রধান প্রশাসনিক ভবন ও রেজিস্ট্রি অফিসের মূল কক্ষগুলো সুনসান। তৎকালীন ইউএনও গাজালা পারভীন রুহি বদলি হওয়ার পর থেকে ইউএনও পদটি সম্পূর্ণ খালি।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড নেই এই উপজেলায়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জমিজমা কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধনের প্রধান মাধ্যম সাব-রেজিস্ট্রারের পদটিও শূন্য থাকায় থমকে গেছে উপজেলার যাবতীয় জমি রেজিস্ট্রির কাজ।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ভূমি ও রেজিস্ট্রি অফিসে এসে। জমির নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায়, দলিল সম্পাদন এবং জরুরি পর্চার মতো সাধারণ কাজের জন্য ১১টি ইউনিয়নের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে দিনের পর দিন ঘুরে যাচ্ছেন।
জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে না পেরে বিপদে পড়েছেন অনেকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বৃদ্ধ ও কৃষকেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, অফিসে কর্মকর্তা না থাকলে আমাদের সাধারণ কাজগুলো কার কাছে গিয়ে করাব?
একই সঙ্গে ইউএনও না থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা তদারকি করার মতো কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা মাঠে না থাকায় পুরো মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এখন এক প্রকার অচল অবস্থার মুখোমুখি।
মনোহরগঞ্জ উপজেলার এই প্রশাসনিক সংকট ও জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজী আক্তার বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই সেখানে শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে।





