শিবগঞ্জ
ভিক্ষা নয়, ব্যবসায় স্বাবলম্বী হাতবিহীন আয়াতুল্লাহ

হরেক মালের ব্যবসায় স্বাবলম্বী আয়াতুল্লাহ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ। দুই হাত নেই, তবুও ভিক্ষা নয়, হরেক মালের ব্যবসায় স্বাবলম্বী আয়াতুল্লাহ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারানোর পরও ভিক্ষাবৃত্তিতে না গিয়ে হরেক মালের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আয়াতুল্লাহ।
ছোট্ট একটি ভ্যানে পণ্য নিয়ে হাটে-বাজারে ঘুরে প্রতিদিন করছেন বেচাকেনা। বাবা-মা, ছেলে, স্ত্রী ও ভাইসহ ৬ জনের সংসার চালাতে হয় তাকেই। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দিনে প্রায় এক হাজার টাকা পণ্য বিক্রি করলে লাভ হয় ৩০০-৩৫০ টাকা। এদিয়েই চলে তার সংসার।
২০১০ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারান আয়াতুল্লাহ। এরপর সুস্থ হতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবার।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর অভাবের কাছে হার মানেননি আয়াতুল্লাহ। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে শুরু করেন হরেক মালের ব্যবসা।
প্রথমদিকে কাঁধে ঝোলানো ডালি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ও বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে পণ্য বিক্রি করতেন। সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ভ্যান ও কিছু পণ্য পাওয়ার পর সেই ভ্যানেই ব্যবসা করছেন আয়াতুল্লাহ। সঙ্গে থাকে ছোট্ট ভাই। ভ্যানে করে বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামে ঘুরে বিক্রি করেন নানা ধরনের পণ্য।
স্থানীয়দের মতে, একটি স্থানে স্থায়ীভাবে একটি দোকান নেওয়া হলে আর হাটে-ঘাটে ঘুরে ব্যবসা করতে হবে না আয়াতুল্লাহকে। স্থায়ী দোকান থেকে ব্যবসা করে আয় বাড়িয়ে পরিবারকে একটু স্বচ্ছল জীবন দিতে পারবেন।
আয়াতুল্লাহ জানান, এভাবে চলাফেরা করতে অনিরাপদ মনে হয়। যদি কোনো স্থায়ী দোকান হয়, তবে অনেকটা নিরাপদে থেকে অধিক আয় করতে পারব।
এলাকার নজরুল ও আব্দুল মালেক জানান, কয়েক বছর থেকেই দেখছি তাকে এভাবে সংসার চালাতে। আগে সে বিশাল একটি ডালিতে পণ্য নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করত।
দুই হাত হারালেও হারাননি বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি। ভিক্ষা নয়, নিজের শ্রম আর ব্যবসার আয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন আয়াতুল্লাহ। এখন তার প্রত্যাশা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আরও একটু স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন তিনি।



