উইপোকার দাপটে মধ্যরাতে সার্কিট হাউজ ছাড়লেন নায়েবে আমির

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
রাতের বিশ্রামের জন্য সার্কিট হাউজে উঠেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করছিল ‘ভিআইপি’ কোনো আতিথেয়তা নয়, বরং উইপোকার আতিথেয়তা! আসবাবপত্র থেকে কম্বল—সবখানেই উইপোকার অবাধ বিচরণ। শেষ পর্যন্ত রাগে-ক্ষোভে সার্কিট হাউজে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন তিনি। মধ্যরাতে চলে গেলেন অন্যত্র।
ঘটনাটি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতের।
আজ শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজের উইপোকাকবলিত কক্ষের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, ১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যান ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার থাকার জন্য সার্কিট হাউজের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাতে বিশ্রাম নিতে কক্ষে ঢুকেই বাধে বিপত্তি। চারদিকে উইপোকা দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। একই সঙ্গে একটি কম্বলও চান। কিন্তু কক্ষ বদলের ব্যবস্থা করেননি। কম্বলও দেননি কেউ। পরে বিষয়টি তার এপিএস আরিফুর রহমান কুমিল্লার এনডিসিকে জানান। তাতেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সার্কিট হাউজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় এ উপনেতা।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান বলেছেন, ‘কুমিল্লা সার্কিট হাউজ সুসজ্জিত ও আধুনিক একটি ভবন। এটি দেখভালের জন্য সরকারি জনবলও রয়েছে। তারপরও ভিআইপি অতিথিদের আবাসনের এমন অবস্থা কেন?’
তার ভাষায়, সেখানে উইপোকার বেশ দাপট দেখা গেছে। অপেক্ষা করেও বিকল্প কক্ষ না পাওয়ায় ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সার্কিট হাউজ ছেড়ে অন্যত্র রাত কাটিয়েছেন।
ঘটনাটি অবশ্য প্রশাসনের নজর এড়ায়নি। শনিবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গণপূর্ত বিভাগকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদেরও কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার সাংবাদিকদের বললেন, ‘বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্কিট হাউজের ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের কারণ দর্শাতেও বলা হয়েছে।’





