দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, কালীগঞ্জ থেকে সরাসরি বাস যাবে ঢাকায়

ছবি: আগামীর সময়
প্রতিদিন ভোরে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি কাজে ঢাকার উদ্দেশে বের হতো কালীগঞ্জের মানুষ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে একাধিকবার যানবাহন বদল, দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই যেন ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। রাজধানীর এত কাছাকাছি অবস্থান করেও একটি সরাসরি বাস সার্ভিসের অভাবে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কালীগঞ্জবাসীকে।
অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় কালীগঞ্জ-গুলিস্তান সরাসরি কেটিএল (কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড) বাস সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে এ সেবার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা গেছে, প্রতিদিন ৩৫টি বাস দেওপাড়া ফেরিঘাট থেকে কালীগঞ্জ বাজার, টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত চলাচল করবে। দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বাস সার্ভিস চালুর দাবি অবশ্য নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে আগেও এলাকার মাসুদ আখন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সরাসরি বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেছেন, কালীগঞ্জ থেকে উত্তরা, মহাখালী ও বিমানবন্দর হয়ে বিআরটিসির এসি বা নন-এসি বাস সার্ভিস চালু হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
বর্তমানে সরাসরি বাস না থাকায় যাত্রীদের পথে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি অতিরিক্ত ভাড়ার চাপও বহন করতে হয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইডেন মহিলা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ বলেছেন, রাজধানীর এত কাছে থেকেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন চলাচল অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা সরকার বলেছেন, কালীগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল সরাসরি বাস সার্ভিস। অবশেষে সেটি বাস্তবায়ন হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
স্বেচ্ছাসেবক কাজী জাহেদ হাসান বলেছেন, বাস সার্ভিস চালু হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর স্থায়ী সুফল পেতে কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা জরুরি। বিশেষ করে কাপাসিয়া রোড এলাকায় তীব্র যানজট নিয়মিত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম বললেন, কেটিএল পরিবহনের যাত্রা শুরু কালীগঞ্জবাসীর জন্য একটি আনন্দের ও স্বস্তির খবর।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বাস সার্ভিস চালুর মাধ্যমে উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
একই সঙ্গে তিনি বাস মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সব নিয়ম-নীতি মেনে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে বাস পরিচালনা করতে হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কালীগঞ্জ-ঢাকা রুটে কেটিএল পরিবহনের বাস চলাচল করত। পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সেই সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেটিএল পরিবহনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আশা করি এই সার্ভিস এলাকার মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমাবে।






