টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্র
সাইনবোর্ড আছে ভবন নেই

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্র। কেটে গেছে প্রায় ৯ বছর। তবে এখনো নির্মিত হয়নি স্থায়ী ভবন। পূর্ণাঙ্গ জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা বলছেন, তিন নদীর মোহনায় অবস্থিত টোক নয়নবাজার এলাকা। গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার সংযোগস্থল হওয়ায় অঞ্চলটি অপরাধপ্রবণ। শীতলক্ষ্যা নদীকেন্দ্রিক সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তদন্ত কেন্দ্রটি।
টোক নয়নবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল হালিমের ভাষায়, ‘এই বাজার এখন কাপাসিয়ার অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন সমাগম হয় হাজার হাজার মানুষের। তদন্তকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা কমবে অনেকটাই।’ একই কথা জানালেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম। ‘আগে কোনো ঘটনা ঘটলে কাপাসিয়া থানায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগত। তদন্তকেন্দ্র হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছে কিছুটা; কিন্তু ভবন ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় মিলছে না পূর্ণ সুবিধা’— বললেন তিনি। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী তদন্তকেন্দ্রে একজন পরিদর্শক, চারজন উপপরিদর্শকসহ জনবল থাকার কথা ছিল ৪০ জন। সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ সংগ্রহ ও তদন্ত পরিচালনার সুবিধা রাখারও পরিকল্পনা ছিল। তবে মামলা রুজু হওয়ার কথা কাপাসিয়া থানায়। কিন্তু বাস্তবে এখনো সেই কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে তদন্তকেন্দ্রে ২৪ পুলিশ সদস্য কর্মরত। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই)। স্থায়ী ভবন, পর্যাপ্ত যানবাহন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম।
টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক মাইন উদ্দিন। তিনি জানালেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে পরিচালনা করা হচ্ছে পুলিশি কার্যক্রম। সীমাবদ্ধতা রয়েছে অবকাঠামোগত। স্থায়ী ভবন হলে জনগণকে আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।
এলাকাবাসীর মতে, স্থায়ী ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে মাদক কারবার, নদীপথে চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধীর তৎপরতা কমে আসবে।
অবশ্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান।


