শেরপুরে জমির দামে জটিলতা, থমকে ভবন নির্মাণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেরপুরে তথ্য কমপ্লেক্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্যসেবা নিশ্চিত করা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০২৩ সালে নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ। এজন্য জমি নির্ধারণও করা হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দাম নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় কাজটি থমকে আছে।
দুটি ভবনের জন্য নির্ধারিত জমির দাম স্থানীয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি— এমন অভিযোগ ওঠার পর কম দামের জমিতে ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এরপরই মূলত বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করেই ভবন দুটি নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত— মনে করেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তার ভাষ্য, স্থানীয়রা জমির অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। পরে সরকারের অর্থ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে কম দামে জমি কেনা বা জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে জেলাপর্যায়ে তথ্যসেবা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তথ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, সিনেপ্লেক্স, অডিটরিয়াম, কনফারেন্স রুম ও ডিজিটাল তথ্য লাইব্রেরি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার, গুজব ও ভুল তথ্য রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাও থাকার কথা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ‘২৬টি জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য শহরের শেরীপাড়া এলাকায় বন বিভাগের কার্যালয়ের পাশে প্রায় ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জমি ক্রয়ে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্ধারিত জমিটির প্রকৃত বাজারমূল্য এর চেয়ে অনেক কম। তাদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মধ্যেই জমিটি পাওয়া সম্ভব। এ অবস্থায় বেশি দামে জমি অধিগ্রহণ করা হলে সরকারের বিপুল অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
তথ্য কমপ্লেক্সের জমির মতো একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভবনের ক্ষেত্রেও। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। শহরের পশ্চিম শেরীপাড়ায় স্পন্দন তেল মিলের কাছে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ভবনটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলনও করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ভবনটি হবে পরিবেশবান্ধব। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির সুবিধা রাখার কথা রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অভিযোগ গ্রহণে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থাও থাকার কথা।
স্থানীয় জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুর মৌজায় বিভিন্ন শ্রেণির জমির সরকারি নির্ধারিত মূল্য ও বাস্তব বাজারদরের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। সরকারি তালিকায় শেরপুর মৌজায় প্রতি শতাংশ নামা শ্রেণির জমির দাম ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮২ টাকা। এ ছাড়া কান্দা শ্রেণির জমি প্রতি শতাংশ ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৬ টাকা, বাড়ি শ্রেণির জমির দাম ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৬, ভিটা শ্রেণির জমির দাম ২ লাখ ৯৬ হাজার ১২৮, পুকুর শ্রেণির জমির দাম ৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৫, বাঁশঝাড় শ্রেণির জমির দাম ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৭, ডোবা শ্রেণির জমির দাম ৬৬ হাজার ২২৫ এবং পতিত জমির দাম প্রতি শতাংশ ১০ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয়দের দাবি, শেরীপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবে প্রতি শতাংশ জমির দাম প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
শেরপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট ও জেলা অফিসার মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলামের দাবি, ভবন নির্মাণের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। এখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখবেন। এ বিষয়ে জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।
একই কথা বলেছেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল খায়েরও। তার ভাষ্য, ভবন নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



