লালমনিরহাটে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সমবায় সমিতির মামলা

ফাইল ছবি
অনিয়মসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে লালমনিরহাটে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে স্থানীয় সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি এস কে সাহেদ ও নয়া দিগন্ত পত্রিকার ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি মো. জুবাইর আহমেদ খানের বিরুদ্ধে রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলা হয়েছে। এর বাদী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাশেম ওরফে বাবুল।
দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য আজ মঙ্গলবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ১২ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ ও ‘তিস্তা ইন্টারন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী এম এ হাশেম ওরফে বাবুল ওই অনিয়মে জড়িত বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।
দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি সাহেদ বললেন, ‘আমরা কোনো উদ্দেশ্যে নয়; বরং সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সত্য ঘটনাই তুলে ধরেছিলাম। সরেজমিনে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও তাদের অনিশ্চয়তার কথা সংবাদে উপস্থাপিত হয়েছে। আমাদের কণ্ঠরোধ করতে ও অপকর্ম আড়াল করতেই চতুরতার আশ্রয় নিয়ে এই মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন ও সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন মনে করেন, এটি মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতা শরিফুল ইসলাম রতন বললেন, ‘অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অপরাধ আড়ালের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কালবেলা ও নয়া দিগন্ত (ডিজিটাল) প্রতিনিধির বিরুদ্ধে করা এই মামলা স্পষ্টতই প্রতিশোধমূলক। সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’
মামলা বিষয়ে জানতে সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাশেমকে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।






