সীতাকুণ্ড ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’, ১৫ দিনে ৭ মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে উপজেলার সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আজ শনিবার উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় সাত দিনের এই ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রামের’ উদ্বোধন করা হয়। এ অভিযান চলবে টানা সাত দিন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু। আর ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৭ জন। আগের মাসের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চাপ বেড়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের কেউ কেউ হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতটি রেড জোনে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটি এলাকায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রেড জোনগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করতে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতেও বলা হয়েছে।




