‘প্রতারণার শিকার’ হয়ে রাশিয়ার যুদ্ধে আরমান, দেশে ফেরার আকুতি

জামালপুরের যুবক আরমান ও চাঁদপুরের মাইনউদ্দিন (বাঁয়ে থেকে)— ভিডিও থেকে নেওয়া
ভাগ্য বদলের স্বপ্নে পরিবারের সঞ্চয় ও ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন জামালপুরের যুবক আরমান আলী। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করা এবং স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ‘প্রতারণার শিকার’ হয়ে তিনি কাজের পরিবর্তে চলে যান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। সেখানে আহত হয়ে বর্তমানে একটি সামরিক ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা আরমান এখন একটাই আকুতি জানাচ্ছেন— যেভাবেই হোক, তাকে যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আরমান আলীর বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকায়। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর মাত্র চার দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন আরমান আলী ও তার সহযোদ্ধা চাঁদপুরের মাইনউদ্দিন।
ভিডিও বার্তায় আরমান বলেছেন, ‘ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণকাজের চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় আসার পরই আমাদের যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। আমরা চারজন বেঁচে আছি, কিন্তু সবাই আহত। এখন একটি ক্যাম্পে রয়েছি। যে কোনো সময় আবার আমাদের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।’
‘ড্রোন হামলা, গ্রেনেড হামলা কিংবা মাইনে পা পড়ে যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। এভাবে মৃত্যু চাই না আমরা। আমরা চাই, মৃত্যুর পর অন্তত আমাদের জানাজা হোক’— যোগ করেন আরমান।
আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দেড় মাস আগে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা দিয়ে আমার ছেলে রাশিয়ায় যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাকে যুদ্ধে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে বলে সে জানিয়েছে। বর্তমানে চারজন বেঁচে আছে, তারাও আহত।’
তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেছেন, ‘তাদের মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’





