বিরামপুরে মাদ্রাসায় ৩ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার শিক্ষক আলী হাসান
দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তিন শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার এক শিশুর বাবা বিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মো. আলী হাসান। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার তিখুর গ্রামের বাসিন্দা।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আল মামুন।
এজাহারের বরাতে তিনি জানান, বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের একটি হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে তিন শিশু দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা করছিল। আলী হাসান বিভিন্ন সময় শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো।
গত ২৬ আগস্ট সকালে এক শিশুকে এবং ১ সেপ্টেম্বর রাতে অপর দুই শিশুকে মাদ্রাসার শয়নকক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুরা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
এরপর শিশুদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলী হাসানকে হেফাজতে নেয়। তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়াও হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
শামীম আল মামুন জানান, মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।






