বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— সংগৃহীত
গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বরিশাল নগরীতে ফিরছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলশিক্ষার্থীদের দেখে বাস থামান তিনি। আজ সোমবার দুপুরে বাবুগঞ্জের শিশু নিকেতন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন ও সেলফি তোলেন তারেক রহমান। তাদের খেলাধুলার সামগ্রীও উপহার দেন তিনি।
শিশু শিক্ষার্থীরা ছবি তোলার আবদার করলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে সেলফি তুলে দেন। পরে বিদ্যালয়ের স্পোর্টস শিক্ষককে ডেকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, দাবাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেন এবং পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জের রহমতপুরে গ্রীষ্মকালীন সেনা মহড়া পরিদর্শন করেন। মহড়ায় দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
সেনা মহড়া শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করলে সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফুল নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় সাগরদী খালের পাশে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খালের দুই পাশে একযোগে প্রায় সাড়ে ৩৫০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘গাছ লাগালেই হবে না, এর পরিচর্যা করতে হবে। এখানে খালের দুই পাশে বসার জন্য অনেক বেঞ্চ রয়েছে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তখন এই গাছের ছায়ায় বসে থাকার সৌভাগ্য লাভ করবে এখানকার মানুষ। আর বিশেষ করে আপনার ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলবেন না। এখানে অনেক বিন রয়েছে, সেখানে ফেলবেন। আপনার শহর আপনাকেই পরিষ্কার রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনকে সহায়তা করতে হবে।’
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউজে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।





