রিং জালের ফাঁদে শেষ হচ্ছে মা মাছ ও পোনা

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৬০টি নিষিদ্ধ রিং (চায়না দুয়ারি) জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেট এলাকায় নিষিদ্ধ রিং জাল ব্যবহারের অভিযোগের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন— সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফজল ইবনে কাওছার আলী, বীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ রায়, পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান, হাবিবুর রহমানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রিং জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু ও পোনা মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, শামুক, ব্যাঙ, চিংড়ির পোনা এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, এ ধরনের জাল জলাশয়ের খাদ্যশৃঙ্খলেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। ব্যাঙ, ছোট চিংড়ি ও উপকারী জলজ পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে গেলে জলাশয়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে প্রাকৃতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার বাড়তে পারে, যা পরিবেশ, মাটি, পানি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এ অভিযান ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে একদিনের অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত অভিযান, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সহজ হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফজল ইবনে কাওছার আলী জানিয়েছেন, রিং জাল ব্যবহারের ফলে প্রায় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। মা মাছ ও পোনা মাছ রক্ষা পায় না, ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন উল্লেখ করেন, রিং জালের সূক্ষ্ম ফাঁসে শুধু মাছ নয়, ব্যাঙ ও উপকারী জলজ পোকামাকড়ও আটকা পড়ে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে।
‘ব্যাঙ কৃষিজমির ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে কীটনাশকের ব্যবহার বাড়বে, যা পরিবেশের জন্য আরও ক্ষতিকর’— যোগ করেন দীপংকর বর্মন।




