খুলনা
পাঁচ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো বিএনপি নেতার মরদেহ

মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচি
খুলনায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আদালতের নির্দেশে পাঁচ মাস পর আজ সোমবার তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে আবার ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখার আদেশ অনুযায়ী, নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দুপুরে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে মরদেহ আবার ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নগরীর আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে আলিয়া কামিল মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরদার তার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে হামলায় কচির মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল দাবি করেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে বড় ধরনের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও সে সময় জানানো হয়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা দেখেননি বলে জানান।
পরে খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু আদালতে নালিশি মামলা করেন। মামলায় আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।
মরদেহ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও অন্য পক্ষ হৃদরোগে স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতে এবং তদন্তকে গ্রহণযোগ্য করতে আদালতের অনুমতি নিয়ে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





