মানিকগঞ্জে হাইকোর্টের রায়ে দায়িত্বে ফিরলেন আ. লীগের ৬ ইউপি চেয়ারম্যান

৬ ইউপি চেয়ারম্যান
হাইকোর্টের আদেশের পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আওয়ামী লীগের ছয়জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর প্যানেল চেয়ারম্যানদের কাছে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইতোমধ্যে বাল্লা, বলড়া, ধুলশুড়া ও হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছেন। রামকৃষ্ণপুর ও চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশে ছয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চিঠিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের ৭০০৩/২০২৫ নম্বর রিট পিটিশনে গত ১৪ মে ২০২৫ সালের নির্দেশনা, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা এবং জেলা সরকারি আইন কর্মকর্তার আইনগত মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
দায়িত্ব ফিরে পাওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. কামাল হোসেন, চালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদ, বাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মো. বাচ্চু মিয়া, হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মোশাররফ হোসেন, ধুলশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জায়েদ খান এবং বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু।
হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোশাররফ হোসেন বললেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি।’
ধুলশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদ খান জানান, আজকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমি গতকাল সন্ধ্যায় চিঠি পেয়েছি। আগামী রবিবার দায়িত্ব বুঝে নিব ইনশাআল্লাহ।’
ছয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী আব্দুল হান্নান মৃধা মন্তব্য করেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে আমার মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই। তবে, সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। এদের ওপর ভর করে হরিরামপুরে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যেন আবার ফিরে না আসে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
হরিরামপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিজা বীসরাত হোসেন বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৬ ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এই ছয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮৬ জনের বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় মামলা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন খান দুলাল। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খানম রিতার গ্রামের বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় রিতার ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। কারাগারে থাকায় তারা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। অপর এক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তারের ভয়ে পলাতক থাকায় তিনিও পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে অনুপস্থিতির কারণে তাদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।





