এক কাপ চায়ের স্বাদ নিতে বারবার ফিরে আসে মানুষ
- চায়ের দোকান নয়, এ যেন শ্রীমঙ্গলের প্রাণের আড্ডা
- বাঁশ-টিনের ছোট্ট দোকান, আজ হাজার মানুষের প্রিয় ঠিকানা

ছবি: আগামীর সময়
পাকা সড়কের পাশে সারি সারি গাছ আর সবুজ চা-বাগান। সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশের মাঝেই বাঁশ, কাঠ ও টিনে তৈরি ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। ভোরের আলো ফুটতেই ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে সেখানে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন, কেউ খবরের কাগজ পড়েন, আবার কেউ সবুজ প্রকৃতির নীরবতায় বসে উপভোগ করেন এক কাপ গরম চা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত এই চায়ের দোকানটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত। ২০০৩ সালে বাঁশ ও ছনের ছোট্ট টংঘর হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে বদলেছে দোকানের অবকাঠামো। তবে জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বর্তমানে এটি শুধু চা বিক্রির স্থান নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দা, ভ্রমণপিপাসু ও চা-প্রেমীদের প্রিয় মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অনির্বাণ সেনগুপ্ত বললেন, প্রকৃতির মাঝে বসে এক কাপ চা পান করার আনন্দই আলাদা। বাইরে থেকে অতিথি এলে তাদেরও এখানে নিয়ে আসি। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দোকানটিতে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
দোকানের মালিক সাদ্দাম মিয়া জানান, কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ ও গরুর খামারে কাজ করার পাশাপাশি জীবিকার সন্ধানে চায়ের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে ছোট একটি দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরিশ্রম, আন্তরিকতা এবং গ্রাহকদের ভালোবাসায় আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, এই দোকানই এখন আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। এখান থেকে আয় করেই সংসার চালাই।
দোকানের কর্মী মারুফ হোসেন সাদ্দাম জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কাপ চা বিক্রি হয়। দুধ চা, মালাই চা ও রং চায়ের পাশাপাশি স্থানীয় স্বাদের বিভিন্ন চা পান করতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকেরাও শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসে এখানে কিছুটা সময় কাটান এবং চা-বাগানের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
সবুজ প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা আর মানুষের প্রাণখোলা আড্ডা সব মিলিয়ে ছোট্ট এই চায়ের দোকানটি এখন শ্রীমঙ্গলের এক অনন্য পরিচিতি। প্রতিদিন এখানে শুধু চা-ই পরিবেশন হয় না, বরং সৃষ্টি হয় নতুন নতুন গল্প, স্মৃতি, সংগ্রাম আর আন্তরিকতার এক জীবন্ত অনুষঙ্গ।





