ভেদরগঞ্জ
বিল পরিশোধ করেও ‘বকেয়া’

সংগৃহীত ছবি
বিদ্যুতের বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও পরবর্তী মাসের বিলে ‘বকেয়া’ দেখানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের একটি গ্রামের একাধিক গ্রাহক। গ্রামের একাধিক গ্রাহকের বিলে একই ধরনের অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় বিল পরিশোধ করেও নতুন বিলে বকেয়া টাকার অঙ্ক দেখে বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো বিল পরিশোধের পরও পরবর্তী মাসের বিলে আগের বিলের টাকা বকেয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে একই বিল পুনরায় পরিশোধ করতে হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তারা। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থও পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি জুলাই ও আগস্ট মাসে অনেক গ্রাহকের বিল স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাদের নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে থাকে, তাদের অনেকের বিল এবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। একইভাবে, ১ থেকে ২ হাজার টাকা নিয়মিত বিল দেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেশি বিল আসায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রাহকেরা। বিল সংশোধন ও বিষয়টি জানাতে ভুক্তভোগীদের অনেকে ভেদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করছেন। তাদের অভিযোগ, অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
ভেদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কথা হয় সোহেল নামে এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক। সোহেল বলেন, তিনি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। কিন্তু গত মাসের বিলে আগের পরিশোধ করা বিল বকেয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য তাকে অফিসে আসতে হয়েছে।
ইয়ার হোসেন নামে আরেক গ্রাহক বলেন, তার নিয়মিত মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু জুলাই মাসে তার নামে ৬ হাজার ৪৭ টাকা বিল আসে। তিনি বিল পরিশোধ করার পরও আগস্ট মাসের বিলে বকেয়াসহ ৯ হাজার ৬৮৩ টাকা দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
ইয়ার হোসেন বলেন, জুলাই মাসের ৬ হাজার ৪৭ টাকা বিল আমি পরিশোধ করেছি। এরপরও আগস্টের বিলে সেই টাকা বকেয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিশোধ করা বিল আবার বকেয়া হিসেবে দেখানোর কারণ জানতে চাই।
সজিব মাঝি নামে আরেক গ্রাহক বলেন, আমি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি। এরপরও নতুন বিলে আগের বিল বকেয়া দেখানো হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলে ভুল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুধু আমার নয়, অনেকের একই সমস্যা হয়েছে। অনেকে বিষয়টি না বুঝে বকেয়া হিসেবে দেখানো টাকাও পরিশোধ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিল পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে গ্রাহকেরা রসিদ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ট্রানজেকশন আইডি ও অন্যান্য লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তবে এসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী বিলে একই অর্থ বকেয়া হিসেবে দেখানোয় তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভেদরগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোনো নির্দিষ্ট বিলিং তারিখে গরমিল বা ত্রুটি হলে এর প্রভাব একাধিক গ্রাহকের বিলে পড়তে পারে। কোনো গ্রাহকের এমন সমস্যা হয়ে থাকলে তিনি অফিসে যোগাযোগ করলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।




