বাসে হেনস্থার অভিযোগে আরপি স্পেশাল আটকাল রুয়েট শিক্ষার্থীরা

ছবি: আগামীর সময়
মাঝপথে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং এক স্টাফের হাতে এসএস পাইপের লাঠি নিয়ে মারতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগে রাজশাহীগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস আটক করেছেন রুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত স্টাফকে সশরীরে এনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ানো না হলে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে নাটোরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বাসটি রুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেটি আটক করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে রাখেন।
রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া জামান জানান, সপ্তাহান্ত হওয়ায় ঢাকা-রাজশাহী রুটের জনপ্রিয় পরিবহনগুলোর কোনো বাসে আসন পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তিনি ও তার পাঁচ সহপাঠী সিরাজগঞ্জের পাবনা রোড থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরপি স্পেশাল পরিবহনে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তার ভাষ্য, বাসটিতে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় বড়াইগ্রাম পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হয়। বনপাড়ায় গিয়ে বসার সুযোগ মিললেও নাটোরে পৌঁছে বাসের স্টাফরা ঘোষণা দেন, বাসটি আর রাজশাহী যাবে না এবং সবাইকে সেখানেই নেমে যেতে হবে। তখন রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিট। বাসটিতে তখনও ২২ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন।
এ ঘোষণার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের এক স্টাফের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। জাকারিয়ার অভিযোগ, স্টাফ অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে হাতে এসএস পাইপের একটি লাঠি নিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় বাসচালকও ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বাসের সব যাত্রী একযোগে প্রতিবাদ জানালে নতুন চালক এনে বাসটি আবার রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাকারিয়ার দাবি, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ওই স্টাফকে পরে পুঠিয়া এলাকার আশপাশে কৌশলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর বাসটি রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেটি আটক করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত স্টাফকে সশরীরে উপস্থিত করে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় বাস ছেড়ে দেওয়া হবে না।
তবে বাস মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অভিযোগে থাকা ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন। এ অবস্থায় বাসটি রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে রাখা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আরপি স্পেশালের সুপারভাইজার রাজিব বলেছেন, 'ঘটনাটি পুরোপুরি অভিযোগে যেভাবে বলা হচ্ছে, সেভাবে হয়নি। বাস ছাড়তে দেরি হওয়ায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আমাদের কোম্পানির কর্মচারী নন; অন্য একটি কোম্পানির লোক।'
অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টির সমাধান না হলে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘অমি’ নামে বাসটির এক স্টাফ বিষয়টি মীমাংসার নামে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং নিজেকে স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রুয়েটে এনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ানো এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাসটি ক্যাম্পাসে আটকে রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।



