গোপালগঞ্জ
বিলে শামুক নিধন, হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য

ছবি: আগামীর সময়
বিলের পানিতে একসময় যেখানে চোখে পড়ত অসংখ্য শামুক, এখন সেখানে কমছে শামুকের উপস্থিতি। প্রতিদিন বিভিন্ন বিল ও খাল থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রয় কেন্দ্রে। জেলার বিভিন্ন বিলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫শ’ বস্তা শামুক কেনাবেচা হয়। ব্যাপকহারে শামুক আহরণের কারণে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিলের পানিতে নেমে শামুক সংগ্রহ করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও হাতে ঝুড়ি, কারও হাতে বস্তা। পানির নিচ থেকে কুড়িয়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক শামুক। এরপর সেগুলো জমা হচ্ছে নির্দিষ্ট বিক্রয় পয়েন্টে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেন বিশ্বাস, সুশান্ত বালাসহ বেশ কিছু লোকজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতপাড়, সিংগা, বরইতলা, মঠবাড়ি, রাহুথড়, বরমপাল্টা, পাথরগ্রাম, বড়খোলা ও চান্দার বিলসহ জেলার বিভিন্ন বিল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শামুক সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব শামুক নিয়ে আসা হয় স্থানীয় বিভিন্ন কেনাবেচার পয়েন্টে। সেখানে বস্তা বস্তা শামুকের বেচাকেনা চলে। প্রতিদিন প্রায় ৫শ’ বস্তা শামুক কেনাবেচা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক চক্র, অন্যদিকে ব্যাপকহারে শামুক সংগ্রহের কারণে তৈরি হয়েছে পরিবেশগত উদ্বেগ।
এ সময়ে বিলাঞ্চলের মানুষের হাতে কোনও কাজ থাকে না। বিল থেকে শামুক ধরে বিক্রি করেন হাজার হাজার মানুষ। এটা করে তাদের কিছু আয় হয়। শামুক ধরে ও তা বাজারে বিক্রি করে এসব খেটে খাওয়া মানুষের সংসার চলে।
ছোট ছোট নৌকায় স্থানীয়রা বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে আর তা বস্তায় বস্তায় কিনে নেয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। এসব ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন চিংড়ি মাছের ঘেরে বিক্রি করে থাকে।
গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, শামুক সংগ্রহকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আমরা সভা করে এ পেশা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাব।পাশাপাশি তারা যাতে এই সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান খুঁজে পায় সে পরামর্শও দেওয়া হবে।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)-এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, একটি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রতিটি প্রাণীরই ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত শামুক আহরণ হলে জলজ পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব পড়তে পারে। তাই শামুক আহরণে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।







