ব্রাহ্মণবাড়িয়া
গ্যাস নেই, মাটির চুলায় রান্না

হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা, ছবি : আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। পাইপলাইনে চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও না পাওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্ধ হয়ে গেছে জেলার প্রায় সব কটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। গ্যাসনির্ভর শিল্প-কারখানার উৎপাদনও থমকে গেছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় অনেক এলাকায় মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে হচ্ছে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্প-কারখানা। আকস্মিক এ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা।
বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুপুরের পর থেকেই চুলায় গ্যাসের চাপ কমতে কমতে একপর্যায়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে মাটির চুলা জ্বালিয়ে রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।
গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও ছোট শিশু থাকা পরিবারগুলো রান্না নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। হঠাৎ করে সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও তা সংগ্রহ করতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। পাঁচটি ফিলিং স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা বিপাকে পড়েছেন। এতে যাত্রী পরিবহনেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্প খাতেও পড়েছে এর সরাসরি প্রভাব। গ্যাসনির্ভর ১৭টি শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে গেছে। এতে কারখানার মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান ও আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে জেলার কিছু এলাকায় স্বল্প পরিসরে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ খুবই কম। স্থানীয় গ্রাহকদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে আবাসিক, পরিবহন ও শিল্প—সব খাতেই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডিজিএম প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বললেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে সে সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে- এটা বোঝা যাচ্ছে।







