স্কুল ফাঁকি দেওয়ার শাস্তি ৮০০ বৃক্ষরোপণ

আটক চার শিক্ষার্থী
স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুরপাড়ে আড্ডা দিতে গিয়ে চার শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ধরা পড়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় থেকে বের হতে তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরি করেছিল।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা চত্বরে। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যতিক্রমী শর্তে তাদের ক্ষমা করে দেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক।
এদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের পুকুর ঘাটে ইউনিফর্ম পরা চার স্কুলছাত্রকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ সময় তারা নিজেদের 'পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়'-এর শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। সেই সঙ্গে টিফিনের ছুটিতে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে দাবি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবির সত্যতা যাচাই করতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের কাউকেই ছুটি দেওয়া হয়নি।
এরপর তাদের উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এনে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সত্য স্বীকার করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এক সহপাঠীর আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বিদ্যালয় থেকে পালিয়েছিল এবং পথে পুকুরে গোসল করতে নামে।
বিকালে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ডেকে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে, তারা কৌশলে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির ভুয়া আবেদনপত্র তৈরি করেছিল। পরে তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে পালিয়ে আসে তারা।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক আগামীর সময়কে বললেন, চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতি, স্কুলের দেয়াল টপকে পালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে ৮০০ গাছের চারা রোপণ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা যেমন ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণেও এটি একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




