সারিয়াকান্দি
৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমিতি, দিশেহারা গ্রাহক

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সঞ্চয় ও এককালীন স্থায়ী আমানতের অন্তত ৫ কোটি টাকা নিয়ে একটি সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উধাও হয়েছেন। এতে প্রায় শতাধিক গ্রাহক নিজেদের জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সমাধানের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে কামালপুর ইউনিয়নের কাশাহার গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা মিলে ‘সূর্যের আলো সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। কড়িতলা বাজারে সমিতির কার্যালয় স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের বাড়িও অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
শুরুতে সমিতি নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করায় স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করে। তবে গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে হঠাৎ কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকে কার্যালয়ে দেখা যায়নি। তাদের বাড়িতে গিয়েও কোনো খোঁজ পাননি গ্রাহকরা। যদিও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি সমিতির দুই পরিচালকের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখে সন্দেহ হয় অনেকের। পরে খোঁজ নিয়ে গ্রাহকেরা জানতে পারেন, প্রায় ১০০ সদস্যের অন্তত ৫ কোটি টাকা নিয়ে তারা আত্মগোপনে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সমিতির সাবেক এক কর্মচারীর স্ত্রী শারমিন জানালেন, তার স্বামী সমিতিতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তারা সাড়ে ৭ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রেখেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কখনো ভাবেননি এভাবে তাদের টাকা নিয়ে সমিতির কর্তৃপক্ষ উধাও হয়ে যাবে। তার দাবি, তাদের মতো অসংখ্য অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী মুর্শিদা জানান, গরু বিক্রি করে পাওয়া ২ লাখ টাকা গহনা তৈরির উদ্দেশ্যে সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। তখন তাকে প্রয়োজনমতো টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন মুনাফা পেলেও পরে আর কোনো অর্থ ফেরত পাননি। তার দেখাদেখি মেয়ে দীপা ২ লাখ টাকা এবং ছেলে সুলতান মাহমুদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। এই অর্থ ফেরত না পেলে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
কড়িতলা এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের ভাষ্য, তার প্রতিবন্ধী বড় ভাই রুটির কারখানায় কাজ করে কষ্টে উপার্জিত ১ লাখ টাকা লাভের আশায় সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। বহুবার চেষ্টা করেও সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।
এদিকে সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়িতেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি নিবন্ধিত সমবায় সমিতি। ঘটনা জানার পর থেকে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে, যাতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে সভাপতি ফরিদ উদ্দিন কখনো তার সঙ্গে দেখা করেননি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
সারিয়াকান্দি থানার তদন্ত পরিদর্শক নুর আলম বললেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




