রাজশাহী
বিএনপি কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহীর পবার পারিলা ইউনিয়নে বিএনপির একটি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কার্যালয়ে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পারিলা বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচি থেকে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পারিলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের টেলিভিশনসহ বেশ কিছু আসবাব ভাঙচুর করা হয়। দেয়ালে টাঙানো জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিও ভেঙে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুস্তাক আহমেদ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযুক্ত মুস্তাক আহমেদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রশীদ বলেছেন, পারিলা শেখপাড়ার মৃত সোবহান শেখের ছেলে মুস্তাক আহমেদ ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তিনি বললেন ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউর করিমও হামলার ঘটনায় মুস্তাক আহমেদ ও তার সহযোগীদের দায়ী করেন।
তার দাবি, মুস্তাক আহমেদ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। তিনি তাকে মাদক ব্যবসার ‘গডফাদার’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
রেজাউর করিম বললেন, ‘মুস্তাক আহমেদ ও তার সহযোগীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মুস্তাক আহমেদ আগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তার চাকরি চলে যায় বলে তারা দাবি করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, এলাকায় ফিরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং স্থানীয় কয়েকজনের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর প্রতিবাদ করার কারণেই মুস্তাক ও তার সহযোগীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়।
রবিবারের মানববন্ধনে পবা যুবদলের নির্বাহী সদস্য সোহেল রানা, রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেছেন, ‘আমার অফিসাররা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমরা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে সেখানে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিলাম।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। ফলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়নি।




