কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুট মৃত তিমি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে প্রায় ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বিশালাকৃতির মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। আজ সোমবার দুপুরে কাউয়ার চর বসুধা আইল্যান্ড-সংলগ্ন সৈকত এলাকা থেকে স্থানীয়রা তিমিটির সন্ধান পান। পরে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটি উদ্ধার করেন।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানালেন, সকালে সৈকতে পর্যটকদের সেবা দেওয়া স্থানীয় ট্যুর গাইড তরিকুল ইসলাম প্রথম তিমিটি দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেন। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করা হয়।
তিনি জানালেন, মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৬ ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার উল্লেখ করেন, সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, অসুস্থতা, খাদ্যের সংকট, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী অনেক সময় উপকূলে ভেসে আসে। তবে তিমিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ, প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ গবেষণার স্বার্থে তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানালেন, ২০১৮ সালে একটি, ২০২২ সালে একটি এবং চলতি বছরের ৩ জুন কুয়াকাটা সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একটি মৃত তিমি ভেসে আসায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক জানালেন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছে। তিমিটি পচাগলা অবস্থায় থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বন বিভাগ ও পৌরসভার সহযোগিতায় তিমিটিকে মাটি চাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




