আগামীর সময়ে সংবাদ
মেধাবী সেই মাসুদ পেল শিক্ষাবৃত্তি

মেধাবী মাসুদ রানার হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন উন্নয়নকর্মী মো. মোরশেদুল ইসলাম। ছবি: আগামীর সময়
অর্থাভাব ও নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অদম্য মেধাবী মাসুদের পাশে দাঁড়িয়েছে সুনাগরিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। মাসুদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। মাসুদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক এই সংস্থাটি।
গত ১২ আগস্ট দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় ‘তবুও থমকে দাঁড়িয়ে মাসুদের স্বপ্ন’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। মাসুদের জীবনের করুণ গল্প ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনটিতে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তা সুনাগরিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নজরে আসে। মাসুদের অদম্য ইচ্ছা এবং মেধার মূল্যায়ন করে তাকে শিক্ষাবৃত্তির সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
সুনাগরিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি মাসুদের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সংগঠনটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সংবাদপত্রে প্রতিবেদনটি দেখে তারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সঠিক সহযোগিতা পেলে মাসুদ দেশের একজন সুনাগরিক এবং দক্ষ সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। তাদের লক্ষ্যই হলো এমন মেধাগুলোকে ঝরে পড়তে না দেওয়া। সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদেরও এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
মাসুদ বলেছেন, ‘পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর এভাবে কেউ সহায়তার হাত বাড়াবে তা কল্পনাও করিনি। আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেল। আমি সুনাগরিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং সংবাদপত্রের সংশ্লিষ্ট সবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
মেধাবী মাসুদ রানার হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন উন্নয়নকর্মী মো. মোরশেদুল ইসলাম।
তিনি বললেন, ‘মাসুদ রানারা আমাদের দেশের সম্পদ। অর্থাভাবে এসব মেধাবীরা ঝড়ে পড়ে যাবে তা কোনভাবে হতে পারে না। একদিন উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সে সমাজের কল্যাণ বয়ে আনবে। আমরা কয়েকজন মিলে এই অর্থ তার হাতে তুলে দিয়েছি। ভবিষ্যতেও আমরা তার পাশে থাকব।’
মাসুদ রানার বাবা অটোরিকশাচালক মো. হাফিজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে এতদূর পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছি। সে মেধাবী ছাত্র। আমি একাই যা উপার্জন করি তা দিয়ে কোনরকম সংসার চলে। আমার পক্ষে তার আর লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। যারা আমার ছেলের পড়াশোনার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে আল্লাহ্ তাদের ভালো করবেন।’
দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্য, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সুনাগরিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।






