তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধা তৈরি হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বেড়ে যাওয়া লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। আজ সোমবার দুপুরে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে।
তবে পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পানির নিচে রয়েছে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের সড়ক, বাড়িঘর ও ফসলি জমি।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার এবং রাত ৯টায় ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্লাবিত হয় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। টানা বৃষ্টিতে ব্যাহত হয় চরাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও।
রাতভর পানি কমে আজ সকাল ৬টায় তা বিপৎসীমায় নেমে আসে। পরে সকাল ৯টার পর পানি আরও কমতে থাকলেও এখনো পুরোপুরি নামেনি প্লাবিত এলাকার পানি।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাঁটুসমান পানি উঠে যায় তার ঘরের ভেতরে। কোনোভাবে চৌকির ওপর বসে রাত কাটাতে হয়েছে।
একই এলাকার সেকেন্দার আলী বলেছেন, ‘পানি বাড়লেই গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় ধীরে ধীরে কমছে তিস্তার পানিও। আজ সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের ২ সেন্টিমিটার নিচে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পরিস্থিতি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান আগামীর সময়কে বলেছেন, তিস্তার পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে জেলার কয়েকটি এলাকা। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ অর্থ। তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।





