শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মেশিন আছে, পরীক্ষা নেই
- সরকারি হাসপাতালে বন্ধ এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা
- সরকারি সেবা না পেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাড়তি টাকা গুনছেন রোগীরা
- দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, তবু পরীক্ষা হয় না

ছবি: আগামীর সময়
চায়ের রাজধানী ও পর্যটননগরী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজারের বেশি রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। বাধ্য হয়ে তাদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এসব পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে কক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক্স-রে টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকায় এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের জুন থেকে এক্স-রে সেবা বন্ধ। অন্যদিকে সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকায় প্রায় তিন মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে রয়েছে দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকায় এসব যন্ত্র থাকলেও রোগীদের কাজে আসছে না।
হাসপাতালে ব্র্যাকের একটি প্রকল্পের আওতায় একজন টেকনোলজিস্ট কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে টেকনোলজিস্টও নেই। ফলে এক্স-রে সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাবেয়া বেগম আগামীর সময়কে বলেন, এক্স-রে করাতে না পেরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড়ের এক্স-রে করিয়েছেন। এতে তার ৬০০ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেকগুলো পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে সব পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। সরকারি হাসপাতালে এসব সেবা পেলে আমরা খুবই উপকৃত হতাম।
নুসরাত ফারিয়া নামের আরেক রোগী আগামীর সময়কে বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে এসে দেখলাম বিভাগ বন্ধ। কর্তব্যরত চিকিৎসক বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেছেন। পরে ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। আমাদের মতো অসহায় রোগীদের জন্য এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া অনেক কষ্টকর।
আরেক সেবাগ্রহীতা নারায়ণ পাশী বলেন, আমি চা বাগানে কাজ করি। গত সপ্তাহে কোমরের ব্যথা নিয়ে এক্স-রে করাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন জানতে পারি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা বন্ধ। পরে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করিয়েছি। সেখানে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে করলে হয়তো ২০০ টাকার মতো খরচ হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন আগামীর সময়কে বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকাসহ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে উপজেলাবাসীকে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল নিয়েই আমাকে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে যে এক্স-রে মেশিনটি রয়েছে, সেটি অ্যানালগ। সনোলজিস্ট চিকিৎসক, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের পূর্ণাঙ্গ এক্স-রে সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছি।




