তিন দিনেও উদ্ধার হয়নি এনজিওকর্মী ডলি

ডলি দাস
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় কোডেক এনজিওতে কর্মরত মাঠকর্মী ডলি দাস (৩৫) নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পার হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি তার। এ ঘটনায় মাঠপর্যায়ে কর্মরত এনজিওকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার গ্রামে ঋণের কিস্তি আদায় শেষে দুপুরে কচুয়া উপজেলার ভাড়া বাসায় ফেরেন ডলি দাস। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিকেলে কোডেকের কচুয়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি ডলির স্বামী পুলক চন্দ্র দাসকে জানান। খবর পেয়ে তিনি পিরোজপুরের মাছিরপুর এলাকা থেকে কচুয়ায় এসে স্ত্রীকে খুঁজতে শুরু করেন। ভাড়া বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় সেদিন সন্ধ্যায় কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ডলি দাসের স্বামী পুলক চন্দ্র দাস বলেছেন, গ্রামে ঋণের টাকা আদায় শেষে ডলি বাসায় এসেছিল বলে জানতে পেরেছি। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। আমাদের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি ছেলে রয়েছে। আমার আশঙ্কা, কেউ আমার স্ত্রীকে অপহরণ করেছে। আমি দ্রুত তাকে উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জামিলুর রহমান বলছিলেন, ডলি দাস নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বামীর করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার সন্ধ্যায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তার অবস্থান পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বললেন, কোডেক এনজিওর গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা ঋণের টাকা নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে রয়েছেন কি না, অথবা ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের কারণে অন্য কোথাও চলে গেছেন, নাকি তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন—সবগুলো বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, ডলি দাসকে দ্রুত খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।




