মামলার সাক্ষ্য দেওয়ায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

হাসপাতালের বেডে কাটা হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় হায়দার মুন্সী— আগামীর সময়
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে হায়দার মুন্সী (৩৫) নামে এক যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
গত ২৫ এপ্রিল রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হায়দার মুন্সীকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ভাই সুজন মুন্সীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন বছর আগে একটি মারামারির মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষ্য না দিয়ে সত্য ঘটনা তুলে ধরেছিলেন হায়দার। এরপর থেকেই কালাম তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি ও হামলার চেষ্টা চালান।
পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাতে কৌশলে হায়দারকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে কালাম মণ্ডলের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
আহত সুজন মুন্সি জানান, তিন বছর আগে গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মণ্ডলের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। ওই মামলায় তার ভাই সত্য সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই কালাম ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার রাতে ভাইকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। তখন হামলাকারীরা প্রথমে তাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। পরে তার ভাই একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে বের করে এনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে।
হায়দারের স্ত্রী দাবি করেন, সত্য কথা বলার কারণেই আজ তার স্বামীর এমন পরিণতি হয়েছে। তার অভিযোগ, কালাম এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ কারণে পরিবারটি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং বাড়িতে ফিরতেও পারছে না। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার বাদী ও হায়দারের মা নিলু খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। হাত-পা হারানোর পর তার ভবিষ্যৎ ও পরিবারের জীবনযাপন নিয়ে তারা চরম উদ্বেগে আছেন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুজ্জামান জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুরো পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে। তাদের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।







