সব বাধা পেরিয়ে
সাফল্যের আলো অভাবের ঘরে
মিথিলা আক্তার পুষ্প
অভাবের সংসারে বড় হয়েছে মিথিলা আক্তার পুষ্প। বাবার পেশা নিরাপত্তাকর্মী, মা পোশাক কারখানার শ্রমিক। সংসারের খরচ মেটাতেই যেখানে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়, সেখানে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল তাদের জন্য বাড়তি চাপ। তবু সে প্রতিকূলতা থামাতে পারেনি মিথিলার স্বপ্নকে; বরং অভাবকে সঙ্গী করেই এগিয়ে গেছে সে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে মিথিলা।
মিথিলার গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়ার খবর সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে তার মা-বাবাকে। মেয়ের ফলাফলে ইয়ায়ুল ইসলাম ও লাইলী আক্তারের চোখ-মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে এতদিনের যে কষ্ট, সীমিত আয়ের মধ্যে যে ত্যাগ— ফলাফলের দিনে সেসব যেন কিছুটা হলেও সার্থক মনে হয়েছে তাদের কাছে।
তবে এই আনন্দের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো সহজ ছিল না তাদের জন্য। তারপরও মেয়ের পড়াশোনা থামিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি তারা। কারণ মিথিলার স্বপ্নকে তারা নিজেদের স্বপ্নের অংশ করে নিয়েছেন।
সে স্বপ্নের পরিধিও ছোট নয়। মিথিলা ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে কাজ করতে চায় সে।
মিথিলার এ পরিশ্রমের বিষয়টি নজর এড়ায়নি শিক্ষকদেরও। বাহাউল হক টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেছেন, ‘মিথিলা ক্লাসের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার প্রতি আন্তরিকতা ও শিষ্টাচারের কারণে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সবারই প্রিয় সে।’




