আধা ঘণ্টায় বিক্রি ২০০ মণ দুধ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর বাজারে বেচাকেনা চলছে দুধ। ছবি: আগামীর সময়
রাজৈর খেয়াঘাটে একের পর এক জড়ো হচ্ছে মানুষ। কারও মাথায় অ্যালুমিনিয়ামের কলস, কারও হাতে প্লাস্টিকের জগ কিংবা বালতি। সব পাত্রই ভর্তি গরুর দুধে। নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই মানুষগুলোর গন্তব্য একটাই— মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর দুধের বাজার।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারটি বসে মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায় প্রায় ২০০ মণ দুধ। শীত মৌসুমে এর পরিমাণ কখনো কখনো পৌঁছে যায় ৩০০ মণেও।
প্রতিদিনের মতো দৌলতপুরের কাকরাইদ গ্রামের আবুল হোসেন মাথায় দুধের কলস নিয়ে খেয়া পার হচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরও অনেক খামারি। দেখতে যেন এক ধরনের মিছিল। তবে এই মিছিল কোনো দাবি আদায়ের নয়; জীবিকা আর বাজারের সন্ধানে নদী পেরিয়ে যাওয়া মানুষের মিছিল।
গোপালপুর বাজারকে স্থানীয়রা শুধু একটি বাজার হিসেবে নয়, বরং একটি বিশেষায়িত দুধের হাট হিসেবেই চেনেন। উপজেলার বরাইদ, রাজৈর, ছনকা, গোপালপুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষক ও খামারিরা প্রতিদিন সকালে এখানে আসেন দুধ বিক্রি করতে। তাদের অনেকেই নদী পেরিয়ে চরাঞ্চল থেকে আসেন।
গোপালপুর গ্রামের ঝন্টু মিয়া ভাষায়, এই বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় দুধ। আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ নিয়মিত আসেন এখানে।
তবে এই প্রাণবন্ত বাজারের একটি অস্বস্তিকর দিকও রয়েছে। খামারিদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকালে পাইকাররাই মূলত নির্ধারণ করেন দুধের দাম। ফলে অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য এ ধরনের বাজারের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎপাদক ও পাইকারের সরাসরি সংযোগ থাকায় দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় দুধ। তবে দাম নির্ধারণে খামারিদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে আরও লাভবান হবেন তারা।
অবশ্য বাজারে ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার স্থানের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী।
‘খামারিরা যাতে আরও ভালো দাম পান, সে লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় সেখানে ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে’— বলেন তিনি।




