রাণীশংকৈল
সেই ভাঙা কালভার্ট হবে নতুন করে, জানালেন উপজেলা প্রকৌশলী

সংগৃহীত ছবি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের হোসেনগাঁও ইউনিয়নের শিদলী-ক্লাব মোড় সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কালভার্টটি পুনর্নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ ৪০ হাজার ৫৫২ টাকা।
আজ রবিবার থেকে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।
মোবাইল ফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেছেন, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের শিদলী থেকে ক্লাব মোড় যাওয়ার পথে অবস্থিত ভাঙা কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম স্বাক্ষরিত কার্যাদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাণীশংকৈল বন্দর বাজার থেকে চোরল বাজার পর্যন্ত সিদলী-বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে ৪ মিটার ও ২ দশমিক ৫০ মিটার আকারের আরসিসি বক্স কালভার্ট পুনর্বাসন ও সংস্কার করা হবে। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুর এলাকার মেসার্স মনির ব্যাগ হাউস। প্রতিষ্ঠানটি ২০ লাখ ৪০ হাজার ৫৫২ টাকায় কাজটি সম্পন্ন করবে।
এর আগে কালভার্টটির বেহাল অবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সরেজমিন দেখা যায়, কালভার্টটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। নিচের ছাদের আস্তর খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আস্তর উঠে যাওয়ায় ছাদে ফাঁকা অংশ তৈরি হয়েছে। সেখান দিয়ে নিচের মাটিও দেখা যাচ্ছে।
কালভার্টটির এমন নাজুক অবস্থায় প্রতিদিন ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ট্রলিসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভ্যান ও সাধারণ মানুষ পারাপার হলেও যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালভার্টটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য উপজেলা সদরের বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। বর্তমানে আমন ধান কেটে বাড়িতে নিতে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন অনেকে। বাধ্য হয়ে তাদের বিকল্প পথে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কালভার্টটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে কিংবা ভারী যানবাহন চলাচলের সময় এটি পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে। এতে দুই গ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।




