রোহিঙ্গাদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ১৫ হাজার টন চাল সহায়তা

সংগৃহীত ছবি
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তায় বাংলাদেশকে আরও ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে ১৫০ মেট্রিক টন ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ডব্লিউএফপির সাগরিকা গুদামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চাল হস্তান্তর করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া এই চাল কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহার করবে ডব্লিউএফপি।
এবারের সহায়তার ১৫০ মেট্রিক টন ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল চালের সঙ্গে মিশিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এতে খাদ্য সহায়তার পুষ্টিমান বাড়বে, বিশেষ করে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২৪ সালে ১৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ২০ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চাল রোহিঙ্গা সহায়তায় দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম শফিকুল হায়দার দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সহায়তা দুই দেশের অংশীদারত্বের একটি উদাহরণ।
বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেছেন, চাল ও ফর্টিফাইড রাইস কার্নেলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা অব্যাহত থাকবে। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শরণার্থীদের পুষ্টির অবস্থার উন্নয়নেও এ সহায়তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বললেন, মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও এ খাতে পাওয়া সহায়তা কমছে। এই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল খাদ্য সহায়তার পুষ্টিমান বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবিকার সুযোগ সীমিত। পাশাপাশি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতিও এখনো তৈরি হয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়া ও ডব্লিউএফপির মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশে ডব্লিউএফপির কার্যক্রমের জন্য মোট ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল দিয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে পড়ায় শরণার্থীদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।





