শরণখোলা
পল্লী বিদ্যুতের হঠাৎ ভুতুড়ে বিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন হাজারো গ্রাহক

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিলে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। অন্যান্য মাসের তুলনায় মে মাসের (চলতি বিল) বিদ্যুৎ ব্যবহারের ইউনিট এবং বিলের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি দেখানোর অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
বিশেষ করে আবাসিক মিটারের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা গেছে এমন অসঙ্গতি। হঠাৎ করে অস্বাভাবিক বিলের কাগজ হাতে পেয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।
দুদিন ধরে (রবিবার ও সোমবার) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়ে ভিড় করছেন শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে। কারও হাতে বিলের কাগজ, আবার কেউ এসেছেন বিল কমানোর আবেদনপত্র নিয়ে। অতিরিক্ত বিলের হয়রানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রাজৈর গ্রামের গ্রাহক গিয়াস উদ্দিন মাস্টার বলেছেন, আমি নিয়মিত ৪৫ থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। কিন্তু মে মাসে বিল এসেছে ৩৮৫ ইউনিটের। মিটার রিডার মিটারের কাছে না গিয়ে অফিসে বসেই বিল করেছে বলে মনে হচ্ছে। অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে যাচাই-বাছাই করে তা সংশোধনের পর ৪৫ ইউনিটেরই বিল করে দিয়েছে। এই অনিয়ম শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, কমবেশি সবার ক্ষেত্রেই হয়েছে।
একই গ্রামের কবির মল্লিক জানিয়েছেন, আগে তার বিদ্যুৎ বিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও মে মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
উত্তর তাফালবাড়ির হামিদা বেগম জানিয়েছেন, তার নামে প্রথমে ৮০০ টাকার বিল করা হয়েছিল। অভিযোগের পর সেটি সংশোধন করে ২০০ টাকা করা হয়েছে।
রায়েন্দা বাজারের গ্রাহক আফরোজা সুলতানা জানালেন, আগে তার সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিটের বিল আসত। অথচ এবার ২০০ ইউনিট দেখিয়ে ১ হাজার ৬৭৩ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। মিটার রিডাররা আন্দাজে বিল তৈরি করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই অভিযোগ জানাতে এসেছেন অফিসে।
গোলবুনিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন গাজীর নিয়মিত ৬৫০-৭০০ টাকার বিলের পরিবর্তে ১ হাজার ৪৯০ টাকা এবং পূর্ব আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাদল হাওলাদারের ৫০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৯৪ টাকার বিল করার অভিযোগ করেছেন তারা।
বিদ্যুতের ভৌতিক বিলের প্রতিকার এবং এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানালেন, মানুষের মৌলিক সেবাগুলোর মধ্যে একটি বিদ্যুৎ খাত। কোনো গ্রাহক যেন ভুল বা অতিরিক্ত বিলের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা উপজেলা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. জাহিদ রেজার ভাষ্য, অতিরিক্ত বিল করার অভিযোগ সঠিক নয়। কোরবানির ঈদে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বিলও বেশি হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট (আবাসিক) ৭ টাকা ২০ পয়সা ছিল। তা বেড়ে এখন হয়েছে ৮ টাকা ৫০ পযসা। কিন্তু গ্রাহকরা এসব না বুঝেই অহেতুক বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তারপরও কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থাকলে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে— যোগ করেন এই কর্মকর্তা।




