ফতুল্লায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ অন্তরা খাতুন (২৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী সাব্বির ওরফে চশমা সাব্বিরের স্ত্রী।
শনিবার রাত ১টার দিকে মাসদাইর গুদারাঘাট হাজীর মাঠ এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, অন্তরার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে মাদক আইনে। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার পিস ইয়াবা, ৩০ গ্রাম হেরোইন এবং দেড় কেজি গাঁজা। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে চলছে অভিযান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে সাব্বির বাহিনী। চাঁদা না পেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং ছিনতাই চালাত তারা। সাব্বিরের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও লুটপাটের একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার রাতে সাব্বিরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতরা হলেন মিজান, কুদরত ও গাড়িচালক জনি। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত জনির ভাষ্য, রাতে ঢাকা থেকে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে মাসদাইরে পৌঁছে দিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ি ঘিরে ফেলে। প্রথমে গাড়ি তল্লাশি করে, পরে চাঁদার টাকা দাবি করে তারা। প্রাণভয়ে তিনি ৫০০ টাকা দিলেও হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন ও অন্য টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে পাশের একটি বাসায় ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তার চোখ ও নাকের নিচে গভীর ক্ষত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযান চালানো হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অপরাধীরা ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সাব্বিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী অন্তরাকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সাব্বির ও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




