রামু
৫০ বছরের অপেক্ষা, তবু মেলেনি ২ কিমি সড়ক!

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেংডেবা গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যোগাযোগ সংকট, বিদ্যুৎহীনতা ও নানা মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক এবং কয়েকটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষ আজও উন্নয়নের মূলধারা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়ক ও সেতুর অভাবে গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পড়েছে চরম দুর্ভোগের মধ্যে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে পড়তে হয় বিপাকে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। অনেক সময় রোগীদের কাঁধে বহন করে হাসপাতালে নিতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ জন রোগীর।
গ্রামবাসীরা জানান, বেংডেবা গ্রামে ধান, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় সেসব পণ্য সময়মতো বাজারজাত করা যায় না। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
শুধু কৃষকরাই নন, শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে পাশের উপজেলায় স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রামটি এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসেনি। মোবাইল নেটওয়ার্কেরও রয়েছে দুর্বলতা। ফলে আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে পুরো এলাকা।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আল-আমিন বলেছেন, ‘জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমাদের গ্রাম এখনো সরকারের মৌলিক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সড়ক, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সুবিধার অভাবে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।’
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মিয়া বলেছেন, ‘রামু উপজেলার অন্যান্য গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের গ্রাম এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সরকারের কাছে বিনীত আবেদন, আমাদের গ্রামের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে উন্নয়নের আওতায় আনা হোক।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মিয়া বলেছেন, ‘কয়েকটি সেতু ও মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।’
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য একরামুল হক বাবুল বলেছেন, ‘এটি আমার ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তা। এখানে প্রায় একশ বছর ধরে মানুষের বসবাস হলেও চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বন বিভাগের বাধার মুখে পড়তে হয়। রোগী নিয়ে এই পথে হাসপাতালে যেতে গেলে অনেক সময় পথেই মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। নির্বাচনের সময় অনেকে রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। প্রশাসন ও সংসদ সদস্য মহোদয় উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষের চলাচলের সমস্যা দূর হবে।’
গ্রামবাসীরা দ্রুত সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, একটি ছোট অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বেংডেবা গ্রামের শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।


