মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ২৯ মিটার। মাতামুহুরীর উজানে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, পেকুয়ার ৭টি ইউনিয়ন. একটি পৌরসভা এবং মাতামুহুরীর ৭টি ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে।চকরিয়ার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, হারবাং, খুটাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা এবং পেকুয়ার পৌরসভা, টৈটং, মগনামা, বারবাকিয়া, রাজাখালী, উজানটিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম ভেওলা, বদরখালী ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। এতে তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। এসব ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরীর নদীর কোনাখালী পুরুইত্যাখালী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পৌরসভার ভাঙারমুখ, আমাইন্যারচর, নামার চিরিংগা ও মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালীর পুরুইত্যাখালী, মরংঘোনা এলাকায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাতামুহুরীর কোনাখালীর বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেছেন, ‘মাতামুহুরীর পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। স্থানীয় লোকজন রাতভর চেষ্টা করেও বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে পারেননি। প্রতি বছর পাউবো বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য প্রকল্প আনে। এসব বর্ষাকালীন প্রকল্প জলেই চলে যায়। নয়ছয় করে কোনোরকমে বালুর বস্তা ফেলে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদার।’
চকরিয়ার শান্তিবাজার গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল হক দুর্দশার বর্ণনা করলেন, ‘বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১০ দিন ধরে আমরা পানিবন্দি আছি। প্রশাসন কোনোরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। গতকাল দুপুর থেকে রান্না পর্যন্ত করতে পারিনি। আমরা গরিব মানুষ, এটাই আমাদের কপাল।’
পেকুয়ার মেহেরনামার বাসিন্দা দলিলুর রহমান বললেন, ‘গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর মাতামুহুরীর পানি বেশি বেড়েছে। প্রভাবশালীরা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্লুইসগেট বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।’
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।উপজেলার নতুন কিছু ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসে দুই শিশু নিহত হয়েছে। এরই মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ২০ টন ও মাতামুহুরীতে ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বললেন, ‘মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নদীর পানি বেড়েই চলেছে।’






