গুঞ্জন
ফুটবলকেই বিদায় জানাচ্ছেন নেইমার?

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায় দলটির সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ম্যাচ শেষেই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার জানা গেল, নেইমার নাকি ফুটবল ক্যারিয়ারেরই ইতি টানতে চান। ব্রাজিলের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এমনই দাবি করছে।
সুপারস্টার নেইমার বর্তমানে ফ্লোরিডায় নিজের পরিবারের সঙ্গে অবকাশযাপন করছেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী, নেইমার সান্তোসে ফিরবেন কি না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। সবটাই এখন নির্ভর করছে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নেইমার তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
গত ১৫ বছর ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েও দেশের সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে আশানুরূপ সম্মান বা স্বীকৃতি না পাওয়ার আক্ষেপ আছে নেইমারের মনে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ফুটবলীয় পরিবেশ ও গণমাধ্যমের অতিরিক্ত কাটাছেঁড়ায় তিনি বেশ ক্লান্ত ছিলেন। নরওয়ের কাছে হেরে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়ার পর তার সেই হতাশা ও মানসিক ক্লান্তি এখন বহু গুণ বেড়ে গেছে।
বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী এই সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকার সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ করা; দ্বিতীয়ত, ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার বাইরে কম চাপের কোনো লিগে পাড়ি জমানো অথবা এখনই ফুটবলকে স্থায়ীভাবে বিদায় বলে দেওয়া। নেইমারের অবসরের গুঞ্জন আরও উসকে দিয়েছে তার বাবা নেইমার দা সিলভা সান্তোসের একটি আবেগঘন পোস্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘একজন বাবা হিসেবে আমি তোমার কাছে একটা অনুরোধ করতে চাই। বাবা, তুমি ফুটবল খেলা বন্ধ করো না। পায়ে বল রাখার সেই পুরনো আনন্দটা আবার খুঁজে নাও। মাঠে সেই চেনা হাসিটা আবার ফিরিয়ে আনো। আজ তুমি সুস্থ আছ, ঈশ্বর তোমাকে আবারও তোমার ভালোবাসার কাজটি করার সুযোগ দিয়েছেন। ফুটবলকে উপভোগ করো।’
নেইমারের শৈশবের বন্ধু ক্রিস গুয়েদেসও একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন, যা স্পষ্টতই নেইমারের বিদায়ের ইঙ্গিত বহন করে, ‘প্রতিটি অসম্ভব ড্রিবলিং, প্রতিটি হাসি আর কান্নার জন্য ধন্যবাদ। সময় হয়তো একটা অধ্যায় শেষ করে দিতে পারে, কিন্তু সে কখনোই কোনো কিংবদন্তিকে মুছে দিতে পারে না। হয়তো এটিই তোমার শেষ ম্যাচ ছিল অথবা এখনো কিছু বাকি আছে। যদি এটাই শেষ হয়, তবে একে বীরের মতোই উদযাপন করা উচিত।’






