আর্জেন্টিনা না স্পেন, ফলের খোঁজে ভূরিভোজ

গোপালগঞ্জে আর্জেন্টিনাদের গরু আর মাদারীপুরে স্পেনভক্তদের মহিষ, ফাইনাল ঘিরে ভূরিভোজে এ আয়োজন। ছবি: আগামীর সময়
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা। কাপ নেবে কে? কয়েক ঘণ্টা পরেই জানা যাবে ফল- আজেন্টিনা না স্পেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের এবারের আয়োজন পৌঁছেছে বিদায়বেলায়। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে কেবল টানটান উত্তেজনাই নয়, উৎসবে মাতোয়ারা ভক্তরা।
দেশের বিভিন্ন জেলায় আজ রাতের জন্য আয়োজন হয়েছে ভূরিভোজ। কোথাও গরুর গায়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার পতাকা, কোথাও দেখা মিলল স্পেনের পতাকায় মোড়ানো মহিষ। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার শেষ সময় বলে কথা!
ফল যা-ই হোক, ফাইনাল ম্যাচ দেখার আয়োজনে এগিয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের পবনাপাড় গ্রামে এ দলের সমর্থকরা আয়োজন করেছে ভূরিভোজের।
কেএম চাঁদ মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে বসছে ভোজ। আজ সকাল থেকে পবনাপাড় গ্রাম ও আশপাশের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন সেখানে। ভোজের গরু আনা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকায় জড়িয়ে।
এ গ্রামের বরকতউল্লাহ বললেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থকগোষ্ঠী গতবার আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপলক্ষে ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলাম। সেই ধারা অব্যাহত রেখে এবারও আমরা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। আমরা যারা আর্জেন্টিনার সমর্থক আছি, তারা ছাড়াও এতিম ও অসহায়দের জন্য খাবারের আয়োজন করেছি।’
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভূরিভোজের আয়োজন হয়েছে। ক্লাবে ক্লাবে খেলা দেখার জন্য বসেছে বড় পর্দা। বাড়িতে বাড়িতে চলছে খেলা দেখা ও মজার খাবারের আয়োজন।
উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব ও আর্জেন্টিনার ভক্ত মান্নান শেখ বললেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপলক্ষে কান্দি ইউনিয়নের ১২টি স্থানে ৮ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করেছি। আমরা বড় পর্দায় খেলা দেখব। এখানে যারা খেলা দেখতে আসবে, তাদের খাওয়ানো হবে।’
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভূরিভোজ আয়োজন আছে মেহেরপুরের গাংনীতেও। উপজেলার গাড়াবাড়িয়া বাসিন্দা পাড়ায় আজ দুপুর থেকেই রান্নার প্রস্তুতি, বিকাল থেকে এ নিয়ে হইচই।
আয়োজক কমিটির সভাপতি লিটন হোসেন বললেন, ‘আমাদের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে, এই আনন্দ ধরে রাখা কঠিন! গ্রামের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার জন্যই এই আয়োজন। আশা করি আর্জেন্টিনা এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দেবে।’
‘ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পাড়ার যুবকেরা যেভাবে সবাই মিলেমিশে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, তা দেখে খুব ভালো লাগছে। হার-জিত যাই হোক, সবার এই মেলবন্ধনটাই আসল’- মনে করেন স্থানীয় প্রবীণ শুকুর আলী।
আর্জেন্টিনার আয়োজন দেখতে এসেছেন স্পেন সমর্থক রনি আহমেদকে। বললেন, ‘আমি স্পেনের সমর্থক হলেও আর্জেন্টিনার বন্ধুদের এই আয়োজনে এসেছি। খেলার মাঠে আমাদের প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু মাঠের বাইরে আমরা সবাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করব এবং খেলা দেখব। এটাই ফুটবলের আসল আনন্দ।’
‘আমরা নিশ্চিত, আজ ট্রফি আর্জেন্টিনার ঘরেই যাবে। পাচঁশতাধিক সমর্থকদের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে আজ’- উচ্ছ্বসিত আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা মহিউদ্দিন আহমেদ।
স্পেন সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই আয়োজনে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুরে মহিষের গায়ে এ দলের পতাকা জড়িয়ে হাজির তারা। কুষ্টিয়া থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে মহিষটি। ভূরিভোজের আমন্ত্রণ পেয়েছেন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ভক্তরাও। ম্যাচ দেখতে প্রস্তুত বড় পর্দা।
এই আয়োজনের পেছনে আছেন স্পেনপ্রবাসী রবি হাওলাদার ও শাহিন মাদবর, কানাডাপ্রবাসী মো. কালাম এবং স্থানীয় সমাজসেবক ও স্পেন সমর্থক আব্দুল গাফফার মুন্সী সোহাগ। তাদের উদ্যোগে শতাধিক ফুটবলপ্রেমীর জন্য হচ্ছে ভূরিভোজ।
আব্দুল গাফফার বললেন, ‘আমরা চাই, ফুটবলকে ঘিরে আনন্দ-উৎসব সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নিতে। তাই সব দলের সমর্থকদেরই নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, ফাইনালে জয়ী হয়ে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতবে।’
ভূরিভোজের পাশাপাশি মিলেছে ফাইনাল ম্যাচঘিরে আরও নানা আয়োজনের খবর।
পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন মোড়, ক্লাব, পাড়া ও মহল্লায় বড় পর্দায় খেলা দেখার পাশাপাশি চলছে পিকনিকের প্রস্তুতি। এখানকার ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, এবার ব্রাজিল নকআউট ছিটকে পড়ায় এ দলের সমর্থকরা স্পেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে উৎসবমুখর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জোরালো।
কাউখালী উপজেলা ক্রিয়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘প্রিয় দলের জয় উদযাপনের পাশাপাশি খেলার সৌন্দর্য উপভোগ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
চাঁদপুরে ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে আয়োজন হয়েছে রম্য বিতর্কের। ইন্টারন্যাশনাল কলেজের চাঁদপুর শাখার এই অনুষ্ঠান হয়েছে আজ দুপুরে।
বিতর্কের বিষয় ছিল- “বিশ্বকাপে আমরাই সেরা”। অংশ নিয়েছেন আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও জার্মানির সমর্থকরা। নিজ নিজ দলের পক্ষে তথ্য, যুক্তি, ইতিহাস ও সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরে বিচারকদের মন জয়ের চেষ্টা করেন বিতার্কিকরা।
আর্জেন্টিনা সমর্থিত দলের বিতার্কিক নুসরাত জাহান ওহি বললেন, ‘ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক।’ আর স্পেন সমর্থিত দলের বিতার্কিক সিদরাতুল মুনতাহা রাহি মনে করেন, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধিরা।











