রাঙামাটি
আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ, সাজেক ছাড়লেন ৮৮ পর্যটক

টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
জেলার রাঙামাটি পৌরসভা, রাঙামাটি সদর উপজেলা, কাউখালি, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, নানিয়াচর ও বিলাইছড়ি উপজেলার এসব মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।
সবচেয়ে বেশি মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন বন্যা উপদ্রুত বাঘাইছড়ি উপজেলায়। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া এসব মানুষকে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এতে ৩০ গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া, মাস্টারপাড়া, মুসলিম ব্লক, হাজীপাড়া, এফ ব্লক, পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকা পুরোটাই পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া সাজেক, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা, বাঘাইছড়ি, সারোয়াতলী ও আমতলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্নস্থানে অন্তত ১২৬টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাউখালীর অন্তত ৩০ স্থানে, বাঘাইছড়ির ৩২ স্থানে, কাপ্তাইয়ের ১৫, রাঙামাটি সড়রের ১০ স্থানে, বিলাইছড়ির ৩৭ স্থান রয়েছে। এসব পাহাড় ধসের কারণে কোথাও কোথাও সড়কে যান চলাচলও বন্ধ ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা সড়ক, লংগদু-দীঘিনালা সড়কে পাহাড়ধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের তৎপরতায় সড়ক ফের চালু হয়।
গত মঙ্গলবার সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা নামের এক ব্যক্তি নদী পারাপারের সময় পানিতে ডুবে রিখোঁজ হয়েছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাতে আকস্মিক রাঙামাটি সফরে এসে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। এ সময় তিনি জানান, পরিস্থিতি মোবাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক তিন পার্বত্য জেলার জন্য ১৩০০ মেট্রিন টন আপদকালীন খাস্যশষ্য বরাদ্দ করা হয়েছে, এটা আরো বাড়ানো হবে।
তিনি দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তার সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাজেকে ঘুরতে যাওয়া প্রায় ছয় শ পর্যটক দ্বিতীয়দিনের মতো সাজেকে আটকা রয়েছেন। দীঘিনালা-সাজেক সড়কের পাঁচটি পয়েন্টে পানি ওঠার কারণে তারা সাজেক ছাড়তে পারছেন না। তবে অনেক পর্যটক ব্যক্তিগত জরুরি কাজ ও ছুটি শেষ হওয়ায় নিজের মতো করে সাজেক ছেড়েছেন।
সাজেক রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানিয়েছেন, ৬০০ পর্যটকের মধ্যে ৮৮ জন আজ সাজেক ছেড়েছেন। বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে সরে গেলে বাকিরাও ফিরতে পারবেন।
এ ছাড়া কাপ্তাই উপজেলারবড়ইছড়ি এলাকার পুরাতন থানা ভবনের পেছনের ব্রিক ফিল্ড এলাকায় পাহাড় ধ্বসে একটি বিশাল গাছ বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন জশি মারমা (৭৫) ও উসিং মং মারমা (২৫)। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিসা নিচ্ছেন তারা।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক গঠিত মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছে। ৩৪ আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়েকেন্দ্র সবাইকে তিনবেলা খাবার ও পানিবন্দি মানুষকে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।






