‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে সংঘর্ষ, সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় ‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে কয়েক দিনের উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়িয়েছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর।
তিনি রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে টাইপালং এলাকায়। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একদল নেতাকর্মীর হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা থানায় এজাহার দিলেও মামলা হয়নি। এর পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুস ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এ সময় এনজিওকর্মী এস এম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের সন্তানরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ছৈয়দা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে হেফাজতে নেয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান।
তার ভাষ্য, ওই নারীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




