চাহিদার অর্ধেকও নেই সরবরাহ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রাজৈর

ফাইল ছবি
প্রচন্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার জনজীবন। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ থাকবে, আর কখন চলে যাবে— কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিছুক্ষণ পরপর আসা-যাওয়া করায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুধ ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে একদিকে ঘুমের ব্যাঘাত, অন্যদিকে মশার উপদ্রব, সব মিলিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পরিবারের অন্য সদস্যরা।
কুঠিবাড়ি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বললেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে আট-দশবার এবং রাতে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’
শাখারপাড় গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধু সুমি আক্তারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ এত অল্প সময় থাকে যে মনে হয়, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে রাজৈরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। রেস্টুরেন্ট, হোটেল, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
লোডশেডিং মোকাবেলায় অনেক ব্যবসায়ী জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবহার করলেও এতে বাড়ছে খরচ। বড় ব্যবসায়ীরা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারলেও এই অতিরিক্ত ব্যায় বহন করতে পারছেন না ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা চত্বরের সুমা কম্পিউটারের পরিচালক মুমিন মিয়ার ভাষ্য, আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় কম্পিউটার ও ফটোকপির যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে।
রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে গরম ও অন্ধকারের কারণে পড়াশুনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা। অনলাইন ক্লাস, কম্পিউটার ভিত্তিক পড়াশোনা এবং মোবাইল ও ল্যাপটপে শিক্ষামূলক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টেকেরহাট জোনাল অফিসের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, রাজৈরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেকেরও কম রয়েছে সরবরাহ। বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।





