রাজশাহীর বাঘায় জীর্ণ ক্লিনিকে সাপের ভয়

জরাজীর্ণ ভবন, চারপাশে জঙ্গল। প্রায়ই দেখা মেলে সাপের। চিকিৎসা দিতে গিয়ে যেমন ভয়ে থাকেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, তেমনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের চিত্র এটি। শুধু অবকাঠামোগত ঝুঁকিই নয়, জনবল ও ওষুধ সংকট এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার অভাবেও ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা।
শুধু মনিগ্রাম নয়, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বেশিরভাগ ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র এমনই। চিকিৎসার আশায় এসে কেউ দেখছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের দরজায় তালা। কোথাও জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, কোথাও মাসের মাঝামাঝিতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ওষুধ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চারঘাটে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, রোগ শনাক্তকরণ ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জটিল রোগীদের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকার কথা। এ ছাড়া বিনামূল্যে ২৭ ধরনের জরুরি ওষুধ দেওয়ার কথা।
নিয়ম অনুযায়ী, শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা থাকার কথা। কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারীর পর্যায়ক্রমে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত ২২ ও ২৯ আগস্ট এবং চলতি সপ্তাহের আরও তিন থেকে চার দিন চারঘাটের ঝিকরা, খোর্দগোবিন্দপুর, বনকিশোর, মুংলি ও বাসুদেবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে একটিও খোলা পাওয়া যায়নি।
ঝিকরা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে অপেক্ষা করছিলেন খোদেজা বেগম। দেখেন দরজায় তালা, স্বাস্থ্যকর্মীরও দেখা নেই। এর আগেও দু-তিন দিন এসে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। খোদেজা বললেন, ‘কখন খোলে ঠিক নাই। অন্যদিনও সময়মতো আসে না। দু-তিন দিন ঘুরে এরপর খোলা পাই।’
একই চিত্র খোর্দগোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকেও। পরপর দুই শনিবার সেখানে গিয়ে ক্লিনিকটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে সিএইচসিপি জাকিয়া নাসরিনের ভাষ্য, ওষুধ আনতে অফিসে যাওয়ায় ক্লিনিক বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারীও বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকলে তাকে অফিসে যেতে হয়। তখন ক্লিনিক খোলা রাখা সম্ভব হয় না।
তবে পাশের বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে সংকটের চিত্র ভিন্ন। সেখানে ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মূল ভবনে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এখন পাশের স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে কোনো রকমে চলছে কার্যক্রম। কেন্দ্রটির চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ভরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সেখানে প্রায়ই সাপ দেখা যায়। অবকাঠামোর পাশাপাশি ওষুধ সংকটও ভোগাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যে পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যায়, তা মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ‘আগের মতো ওষুধের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না’— বললেন কেন্দ্রটির পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) মোসা. সুমি খাতুন।
দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন এস আই এম রাজিউল করিম। তার ভাষ্য, কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা রেখে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সভা, প্রশিক্ষণ বা ওষুধ সংগ্রহের জন্য কর্মীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতে পারে। তবে কোনো ক্লিনিক নিয়মিত বন্ধ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জানানো যেতে পারে।



