আড়াইহাজার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র
সাত দিনের কাজ শেষ হয়নি ৪৪ মাসেও
- বিশেষজ্ঞ দলের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা
- বিদ্যুৎসংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন
- শিল্পাঞ্চলেও বাড়ছে উদ্বেগ
- গ্রিড চালু হলে কমবে সংকট

রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। যেখানে রয়েছে পোশাক, নিটিং, স্পিনিং, ডাইং, ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। শিল্প ও আবাসিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আড়াইহাজারে নির্মাণ করা হয়েছে ১৩২/৩৩ কেভি ও ১৬০/২৪০ এমভিএ ক্ষমতার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া উপকেন্দ্রটি ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় এখনো চালু হয়নি সেটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারিগরি কাজ বাকি রয়েছে। কোরিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এলেই এসব কাজ শেষ করা সম্ভব। গ্রিডটি চালু করা গেলে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোরিয়ান একটি প্রকৌশলী দল এসে যে কাজ শেষ করতে বড়জোর ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগার কথা, সে কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বছরের পর বছর। আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে ভুলতা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিডের ওপর। অতিরিক্ত লোডের কারণে নিয়মিত লোডশেডিং, ভোল্টেজের ওঠানামা ও আকস্মিক বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটছে। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। বাড়ছে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও উদ্বেগ।
তাদের আশঙ্কা, কোনো কারণে ভুলতা গ্রিডে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তখন রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রূপগঞ্জের বরপা এলাকার আরিফ হোসেন আরব। তার ভাষায়, ‘বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ। অনেক সময় পানিও তুলতে পারে না। জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই পড়ছে এর প্রভাব।’
তার মতে, একটি গ্রিড চালু করার জন্য যদি মাত্র কয়েক দিনের কাজ বাকি থাকে, তাহলে সে কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত। কারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখন আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আড়াইহাজারে গ্রিডের বিষয়টি এখন আর শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি লাখ লাখ মানুষের নাগরিক দুর্ভোগ, শিল্প উৎপাদন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একদিকে ভুলতা গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ, অন্যদিকে আড়াইহাজারে গ্রিড চালু না হওয়া দুইয়ের সমন্বিত প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গ্রিড চালুর গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) আড়াইহাজারের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার টি এম মেজবা। তার দাবি, সারা দেশেই কিছুটা বিদ্যুৎসংকট রয়েছে। রূপগঞ্জেও কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আশা করেন, আড়াইহাজারের নতুন গ্রিডটি চালু করা গেলে রূপগঞ্জের বিদ্যুৎসংকট অনেকটাই কমে যাবে।




