বাগেরহাটে আশ্রয়ণের জীর্ণ ঘরেই দিনযাপন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভূমি ও গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের পূর্ব সায়েড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। ৩০টি ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা প্রকল্পটিতে একসময় ছিল বেশ কয়েকটি পরিবারের বসবাস। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ ঘর এখন জরাজীর্ণ। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। তবে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এসব ঘরে বসবাস করছে ১৮টি পরিবার।
কারণ প্রকল্প ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ সবার নেই। যারা এখনো সেখানে আছেন, তাদের অনেকেরই নিজেদের কোনো জমি বা বিকল্প আশ্রয় নেই। ফলে ভাঙা ঘরেই শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ঘরের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর পানি জমে যায়। পানি ঠেকাতে কেউ কেউ চালের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে রাখেন— বলছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা।
তাদের ভাষ্য, শুধু চাল নয়, ঘরের বিভিন্ন অংশও নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও পিলার ভেঙে গেছে, কোথাও টিন ক্ষতিগ্রস্ত। সামান্য ঝোড়ো বাতাসে নড়বড়ে ঘরগুলো কাঁপতে থাকে। এতে শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তাসলিমা বেগমের ভাষায়, ৩০টি ঘর থাকলেও সবকটি এখন বসবাসের উপযোগী নেই। অনেক ঘর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। তার ঘরের টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। বৃষ্টি বেশি হলে ঘরের ভেতরেও পানি উঠে যায়। তখন পলিথিন দিয়ে কোনোভাবে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। ঝড়ের সময় ঘর নড়াচড়া করায় সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘুমাতেও ভয় লাগে তার।
তাসলিমার মতো একই অভিজ্ঞতা অনুপা বেগমের। তার ভাষ্য, অনেক বছর ধরেই ঘরগুলোর এমন অবস্থা। সময়মতো মেরামত না হওয়ায় একে একে অনেকে প্রকল্প ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু নিজেদের যাওয়ার মতো জায়গা না থাকায় কষ্ট হলেও তারা এখানেই পড়ে আছেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের সমস্যাগুলো নিয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি জানালেন, ঘরগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হবে।



