টাঙ্গাইলে শিশুসন্তান হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

সংগৃহীত ছবি
শিশুসন্তান হত্যার দায়ে টাঙ্গাইলে মাকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আজ সোমবার দুপুরে এই রায় দেন।
দণ্ডিত ওই মায়ের নাম আয়না বেগম (২৪)। তিনি মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে।
রায়ে দণ্ডিত আয়না বেগমকে তার শিশুপুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে তিন বছরসহ ১৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন জানালেন, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন।
বিগত ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান, তার ১৮ দিন বয়সের শিশুপুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ খবর পাওয়ার পর তিনি তার শ্বশুরবাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির পাশের খালের পানিতে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পরে জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপপরিদর্শক মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিগত ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
মামলায় ৯ জনের স্বাক্ষর গ্রহণ শেষে রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




