ভূমিকম্প আতঙ্কে রাজশাহীর শত শত ভবন

চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে রাজশাহী নগরীর অন্তত ৭২১টি ভবন
একটি আগুনের ঘটনা কিংবা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পই বদলে দিতে পারে রাজশাহীর হাজারো পরিবারের জীবন। কারণ নিয়ম উপেক্ষা করেই নির্মিত হয়েছে নগরীর শত শত বহুতল ভবন।
ফায়ার সার্ভিস ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তথ্য বলছে, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের ফলে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন অসংখ্য মানুষ।
ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে রাজশাহী নগরীর অন্তত ৭২১টি ভবন।
অন্যদিকে আরডিএর তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১ হাজার ২৪৫টি বহুতল ভবনের মধ্যে ৮৪৮টিই নির্মাণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় রাস্তার জায়গা না রেখে অথবা নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে। ফলে কোনো অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে উদ্ধার তৎপরতা চালানো।
গত দুই দশকে জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজশাহীতে দ্রুত বেড়েছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। কিন্তু পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উন্নয়নই এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থাও নেই অনেক ভবনে। কোথাও জরুরি নির্গমন পথ সংকুচিত, কোথাও ঘাটতি রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে তৈরি করছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওয়াকিলের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে শুধু নোটিস বা মামলা যথেষ্ট নয়। অবৈধ অংশ অপসারণ এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়ম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে রাজশাহী ধীরে ধীরে একটি উচ্চঝুঁকির নগরীতে পরিণত হচ্ছে। বহুতল ভবনের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একই হারে শক্তিশালী হয়নি।
তবে আরডিএ দাবি করছে, নিয়মবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপসারণ করা হয়েছে ১৪০টি ভবনের অবৈধ ও বর্ধিত অংশ।
আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে নোটিস ও চলমান মামলা কার্যক্রম। ভবিষ্যতে নেওয়া হবে আরও কঠোর ব্যবস্থা।





